ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশের মধ্যে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা গেছে। দিনের শুরুতে দাম কিছুটা বাড়লেও পরে তা আবার কমে যায়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়ায়।
তবে এই ঊর্ধ্বগতি স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী লেনদেনে ব্রেন্টের দাম ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২৭ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ১৭ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল একই হারে কমে ৮৫ দশমিক ০১ ডলারে স্থির হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাশার তুলনায় আপাতত কম কঠোর হওয়ায় তেল সরবরাহে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে বলে মনে করছেন না বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখনই বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর না করায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ৭ মে-র পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি। গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত মজুত প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল কমে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে নেমেছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
ফলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হলেও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজে জাহাজ চলাচল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ