অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এ ধরনের পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সোমবার সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, পশ্চিম তীরের ‘ই১’ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা ওই ভূখণ্ডকে আরও খণ্ডিত করবে। এর ফলে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সংযোগ ও কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিঙ্গাপুর ইসরায়েলকে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এসব হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
‘ই১’ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। তাঁদের বেশির ভাগই ১৮টি গ্রামের বেদুইন সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানে নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব জনগোষ্ঠীর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের কার্যকর পথ।
গত ১৮ আগস্ট ইসরায়েলি সরকার ‘ই১’ এলাকায় এক হাজার ২০০টির বেশি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত ‘ই১’ অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিরোধের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর সংযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা নিয়ে সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশও উদ্বেগ জানিয়েছে।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
মন্তব্যসমূহ