ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দিল্লির আমন্ত্রণ, তবু ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই তারেক রহমানের

দিল্লির আমন্ত্রণ, তবু ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

আপনার দেওয়া লেখাটি মূলত মতামত/বিশ্লেষণধর্মী লেখা, সরাসরি সংবাদ নয়। এর মধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও গুরুতর অভিযোগ লেখকের মতামত হিসেবে এসেছে। তাই সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করতে হলে সেগুলোকে তথ্য হিসেবে না লিখে, যাচাইযোগ্য অংশগুলো আলাদা করে উপস্থাপন করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ের এ সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। 

ভারত ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তবে ঢাকা এখনই সফর চূড়ান্ত করতে চাইছে না। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই সফর হতে পারে। 

সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির বিরোধ। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় সম্ভাব্য সফর নিয়ে চলমান প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা ভারতকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির কাজে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। 

এর মধ্যেই ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের সময়সূচি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সফর হতে পারে বলেও খবর আসে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ জানান, সফরের বিষয়ে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত করেনি। 

ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 

আল জাজিরার বিশ্লেষণেও তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থার কেন্দ্রে শেখ হাসিনা ইস্যুকে রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই প্রতিবেশী এখনো মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারেনি। 

এদিকে বাংলাদেশ সরকার বলছে, প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরটি বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের ফাঁকে হওয়ার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই ঢাকার পছন্দ। 

ফলে ভারত সফরের আমন্ত্রণ থাকলেও তারেক রহমান কবে নয়াদিল্লি যাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঢাকা স্পষ্ট করেছে, সফরের সময় নির্ধারণে তাড়াহুড়োর পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে অগ্রগতিই অগ্রাধিকার পাবে।

ট্যাগ : তারেক রহমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভারত সফর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


দিল্লির আমন্ত্রণ, তবু ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই তারেক রহমানের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আপনার দেওয়া লেখাটি মূলত মতামত/বিশ্লেষণধর্মী লেখা, সরাসরি সংবাদ নয়। এর মধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও গুরুতর অভিযোগ লেখকের মতামত হিসেবে এসেছে। তাই সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করতে হলে সেগুলোকে তথ্য হিসেবে না লিখে, যাচাইযোগ্য অংশগুলো আলাদা করে উপস্থাপন করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ের এ সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। 

ভারত ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তবে ঢাকা এখনই সফর চূড়ান্ত করতে চাইছে না। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই সফর হতে পারে। 

সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির বিরোধ। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় সম্ভাব্য সফর নিয়ে চলমান প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা ভারতকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির কাজে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। 

এর মধ্যেই ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের সময়সূচি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সফর হতে পারে বলেও খবর আসে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ জানান, সফরের বিষয়ে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত করেনি। 

ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 

আল জাজিরার বিশ্লেষণেও তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থার কেন্দ্রে শেখ হাসিনা ইস্যুকে রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই প্রতিবেশী এখনো মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারেনি। 

এদিকে বাংলাদেশ সরকার বলছে, প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরটি বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের ফাঁকে হওয়ার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই ঢাকার পছন্দ। 

ফলে ভারত সফরের আমন্ত্রণ থাকলেও তারেক রহমান কবে নয়াদিল্লি যাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঢাকা স্পষ্ট করেছে, সফরের সময় নির্ধারণে তাড়াহুড়োর পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে অগ্রগতিই অগ্রাধিকার পাবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ