ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে ডেকে বন্ধুকে হত্যা, ইজতেমা ময়দানের ড্রেনে মিলল লাশ

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে ডেকে বন্ধুকে হত্যা, ইজতেমা ময়দানের ড্রেনে মিলল লাশ
ফলো করুন

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক মাস পর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম মিঠু (৩০) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। আকাশ ও মিঠু দুজনই কম্বোডিয়া প্রবাসী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এ ঘটনায় র‌্যাবের সহযোগিতায় মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে আকাশ সরদার ও মাজহারুল ইসলাম মিঠু কম্বোডিয়ায় যান। প্রায় তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আকাশ বেকার হয়ে পড়লে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই সোনারগাঁয়ে ডেকে নেন মিঠু।


পরে সেখান থেকে আকাশকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে সুমন নামে এক ব্যক্তি আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান। এরপর থেকেই আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আকাশের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা মো. করিম সরদার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।


পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিকুইজিশনের ভিত্তিতে উত্তরা র‌্যাব-১-এর একটি দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশ সরদারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে ডেকে বন্ধুকে হত্যা, ইজতেমা ময়দানের ড্রেনে মিলল লাশ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক মাস পর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম মিঠু (৩০) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। আকাশ ও মিঠু দুজনই কম্বোডিয়া প্রবাসী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এ ঘটনায় র‌্যাবের সহযোগিতায় মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে আকাশ সরদার ও মাজহারুল ইসলাম মিঠু কম্বোডিয়ায় যান। প্রায় তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আকাশ বেকার হয়ে পড়লে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই সোনারগাঁয়ে ডেকে নেন মিঠু।


পরে সেখান থেকে আকাশকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে সুমন নামে এক ব্যক্তি আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান। এরপর থেকেই আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আকাশের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা মো. করিম সরদার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।


পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিকুইজিশনের ভিত্তিতে উত্তরা র‌্যাব-১-এর একটি দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশ সরদারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ