মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওজন গত তিন বছরে প্রায় ২৩ পাউন্ড বেড়েছে। এই ওজন বৃদ্ধি তার স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
গত মে মাসে শারীরিক পরীক্ষার সময় ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের ওজন ছিল ২৩৮ পাউন্ড। আগের বছরের তুলনায় তার ওজন বেড়েছে ১৪ পাউন্ড। ২০২৩ সালে জর্জিয়ায় একটি মামলায় আত্মসমর্পণের সময় নথিতে তার ওজন উল্লেখ করা হয়েছিল ২১৫ পাউন্ড। সেই হিসাবে তিন বছরে তার ওজন বেড়েছে ২৩ পাউন্ড।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়েট অ্যান্ড ওয়েলনেসের পরিচালক চিকিৎসক স্কট কাহান বলেন, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে শারীরিক অক্ষমতা এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
চিকিৎসকরা ট্রাম্পকে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্পের ফাস্টফুড, বিশেষ করে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার ও ডায়েট কোকের প্রতি আগ্রহের বিষয়টি আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বলছে, প্রেসিডেন্ট এখনো অত্যন্ত কর্মক্ষম। তিনি নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক, জনসম্মুখে বক্তব্য এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে অন্যান্য দায়িত্ব পালন করছেন। তার চিকিৎসকরাও বিভিন্ন সময়ে তার শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন।
নিজের ওজন নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ট্রাম্প। গত জুনে ওজন কমানোর ওষুধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ওষুধ তিনি গ্রহণ করেননি। তবে রসিকতা করে বলেন, হয়তো তার নেওয়া উচিত।
জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফটের ওজনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার রেকর্ড ভাঙতে চান না।
এর আগেও ট্রাম্পের ওজন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে তার ওজন ছিল প্রায় ২৪৩ পাউন্ড। সে সময় তার উচ্চতা ও ওজনের হিসাবে তিনি স্থূলতার সীমায় পৌঁছেছিলেন এবং চিকিৎসকরা তাকে ওজন কমানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
মন্তব্যসমূহ