সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তিন দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি ‘খুবই খুশি’। ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বাড়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার সক্ষমতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিন দেশের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি চুক্তিটিকে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। চুক্তিটি গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় এবং এতে কোনো এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নীতি রাখা হয়েছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কানাডার অংশগ্রহণের সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কানাডার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কানাডাকে ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে, অন্যদিকে কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ ও বিভিন্ন ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করে। এরপরও ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে কানাডার অংশগ্রহণের সমালোচনা করেন তিনি।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলি, ড্রোন হামলা ও সামরিক যান চলাচলের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব দাবির কিছু অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে একদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান ও লেবাননকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
মন্তব্যসমূহ