দেশের প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং এসব বিচার কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় হবে না।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির দশতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে, যারা মামলা হওয়ার বহু আগে মারা গিয়েছিলেন। এমনকি হজ পালনের জন্য পবিত্র কাবা শরিফে অবস্থান করা ব্যক্তিকেও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, জেন-জি প্রজন্ম ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ একটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তনের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার তরুণ বিভিন্নভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
তিনি বলেন, মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ নিয়ে কোনো ধরনের ছেলেখেলা করা যাবে না। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদ যাতে আবারও ফিরে আসার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষ রাজপথে নেমেছিল। তার দাবি, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারাতে হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অর্জনে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
চলমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং গ্যাস ও এলএনজি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে জ্বালানি সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে এসব সংকটের মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করছে না; বরং এর সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে চায় না। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও বিভিন্ন সেবকের জন্য মাসিক ভাতা চালু করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমনসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ