দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা এসব সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, কর্মসংস্থান বিনিময় কার্যক্রমটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে তা দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। এ কার্যক্রমে বেসরকারি খাতকেও সরাসরি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দেশের কোনো নাগরিক যেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য।
মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের রাজনৈতিক মতামত ও ভোটাধিকারের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তাই নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনমানের স্থায়ী উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
সরকারের প্রথম বাজেটের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। এর উদ্দেশ্য নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমানো।
স্বাস্থ্য খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, শিগগিরই এ খাতে এক লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের নাগরিকদের বৈচিত্র্যের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, পাহাড়ি বা সমতলের বাসিন্দা, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিক সক্ষমতা—কোনো পরিচয়ই নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের কারণ হতে পারে না। সব নাগরিকের সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যের মধ্যেই দেশের প্রকৃত পরিচয় নিহিত। তাই ভিন্ন মত ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
সূত্র: বাসস
মন্তব্যসমূহ