পুরান ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আবাসিক হলে সংঘর্ষের এক সপ্তাহ পর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই সংগঠনের নেতারা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।
সমঝোতার পর সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে হলে প্রবেশ করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৪ আগস্ট সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর জেরে বিকেলে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার সামনে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসার আবাসিক হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন এবং কয়েকটি প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে দেন। রোববার ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে রোববার রাতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। এতে ঢাকা-৭ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি ইমদাদুল হক মিয়াজী এবং সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা শাখার সভাপতি আবদুল আলিম অংশ নেন।
বৈঠকে আবাসিক হলে ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে সংঘাত, বিশৃঙ্খলা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নেতারা সম্মতি জানান।
ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার নেতা সাদ চৌধুরী বলেন, বৈঠকে দুই পক্ষই নিজেদের অভিযোগ ও অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে হলে সিট বণ্টনের বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য উভয় পক্ষ প্রশাসনের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করবে।
তিনি জানান, সোমবার দুপুরের পর হলকার্ডধারী এবং হলকার্ডের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করেছেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিট বণ্টনের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়, সে দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান বলেন, সংঘাতে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ভবিষ্যতে হল ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি বলেন, অতীতের ঘটনা নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে সামনে শিক্ষার পরিবেশ ও সুস্থ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন।
হলে সিট বণ্টন প্রসঙ্গে দাউদ খান বলেন, মেধার ভিত্তিতে বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়ার দাবিতে ছাত্রশিবির ১১ দফা দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।