ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ঢাবি সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে। তিনি তরুণ ও শিক্ষার্থীদেরও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের বিজয় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইভাবে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশের সংবিধানও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও তরুণদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতার কারণে উসকানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি ধৈর্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের মত প্রকাশের আহ্বান জানান।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে অন্য দেশের মাটি থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুভূতি তুলে ধরেন।