হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে একাধিক আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আগামী বুধবার এই চুক্তি ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে চলছে।
জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনার মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি করা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, আলোচনার অগ্রগতির স্বার্থে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিমান হামলার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে ৬০ দিনের জন্য একটি বিশেষ নৌ-চলাচল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় পারস্য উপসাগরমুখী জাহাজগুলো ইরানের জলসীমা সংলগ্ন উত্তর লেন ব্যবহার করবে, আর বহির্মুখী জাহাজগুলো ওমানের জলসীমা ঘেঁষা দক্ষিণ লেন দিয়ে চলাচল করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই দেশের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থায়ী সময়কালে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো অতিরিক্ত শুল্ক বা ফি আরোপ করা হবে না। পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালির মধ্যবর্তী নৌপথ থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কাজ শেষ হলে ওই লেনটি স্থায়ী চুক্তির আওতায় উভয়মুখী চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হবে।
তবে কূটনৈতিক মহলে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের একটি সমঝোতার প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয় এবং পরবর্তীতে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানায়, এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় ওমানের পাশাপাশি কাতার, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরাও নিয়মিতভাবে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যে একাধিক দফায় টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে।
আরও জানা গেছে, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে নীতিগত সম্মতির পর সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
সূত্র : রয়টার্স