ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আলোচনায় তিনি ইরানের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য বড় ধরনের মার্কিন হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টির জবাবে নতুন হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন ট্রাম্প। তবে সে সময় পর্যন্ত তিনি সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।
ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত সূত্রের দাবি, সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। একই সঙ্গে তিনি পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটিয়ে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। তবে হোয়াইট হাউস ও ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এর আগে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন হামলা চালালে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসব আলোচনায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়।
হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চলমান সংকট নিরসনের মতো কোনো চূড়ান্ত সমাধান তখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন হামলা শুরু হলে কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ওপর সংযম দেখানোর চাপ বাড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ।
সূত্র: অ্যাক্সিওস