দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর এটিই দেশটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সফর। এবারের দুই ম্যাচের সিরিজে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই নয়, ইতিবাচক ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা।
বাংলাদেশ বর্তমানে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। চার ম্যাচে দুই জয়, একটি হার ও একটি ড্রয়ে দলটির পয়েন্টের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় বহর রোববার রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। যাত্রার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
তিনি জানান, ২৩ বছর আগের সফরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য ও সামর্থ্য দুটিই ভিন্ন। তখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টিকে থাকাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবারের দল ভালো ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করতে চায়।
হাবিবুল বাশারের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সফরটি নিয়ে রোমাঞ্চিত। দলের প্রত্যেকেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় কিছু করে দেখাতে চান।
চোটের কারণে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে সফরে যেতে না পারলেও আশাবাদী প্রধান নির্বাচক। এর আগে ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাঠে হারানোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ ভালো ফল করতে পারে।
ওই ঐতিহাসিক জয়ের সময়ও বাংলাদেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার দলে ছিলেন না। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কাজটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন হাবিবুল বাশার।
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট কাটিয়ে টেস্ট দলে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। বাঁ পায়ের পেশির চোটের পুনর্বাসন শেষ করে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে। দুটি ম্যাচই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান শক্তিশালী করার বড় সুযোগ। একই সঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেদের উন্নতি যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও এটি।