সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দেশটির আদালত থেকে জামিন পেয়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তবে বাংলাদেশ সরকার এখনো তার জামিনে মুক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। তাকে দেশে ফেরানোর প্রত্যর্পণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী বেনজীর আদালত থেকে জামিন পেয়ে থাকতে পারেন। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারের কাছে যে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিল, তা সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার আশা করছে, বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়। পরে ওই নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ গত ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠাতে হবে।
সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠায় বাংলাদেশ সরকার।
পরবর্তী সময়ে বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতির পাশাপাশি আরও কিছু তথ্য ও আইনি ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ। দুদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করে।
এই নথি আদান-প্রদানের মধ্যেই দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বেনজীরের জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশিত হয়। তবে খবরটির আনুষ্ঠানিক সমর্থন এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে এনসিবির কর্মকর্তাদের কাছেও এখনো কোনো তথ্য নেই।