তীব্র বিরোধিতা ও সমালোচনার মুখে বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা বাতিল করেছে ফিফা। বিতর্কিত উদ্যোগটি প্রত্যাহারের পর সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইউরোপের পেশাদার ফুটবল লিগগুলোর সংগঠনের প্রধান ক্লদিয়াস শেফার বলেছেন, ফিফার গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোকে না জানিয়ে এত বড় একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পর ইনফান্তিনোর অবস্থান আর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না।
সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম সনটাগসজাইটুংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেফার বলেন, সাধারণ কোনো প্রতিষ্ঠানেও শীর্ষ কর্মকর্তা অন্যদের অন্ধকারে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিলে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠত। ফিফার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি।
ফিফার প্রস্তাব ছিল বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ শতাংশ অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নতুন প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার।
পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। তাদের অভিযোগ ছিল, ফিফা সদস্য সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই উদ্যোগটি এগিয়ে নিয়েছে। উয়েফার সদস্যরা পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল।
ব্যাপক চাপের মুখে শুক্রবার ইনফান্তিনো জানান, পরিকল্পনাটি ফুটবল বিশ্বে বিভাজন তৈরি করায় ফিফা আর এটি বাস্তবায়ন করবে না। তবে পরিকল্পনা বাতিলের পরও তার নেতৃত্ব ঘিরে অসন্তোষ কমেনি।
শেফার মনে করেন, ফিফার উদ্যোগটি শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ঘাটতিই প্রকাশ করেনি, বরং খেলাধুলার স্বার্থের চেয়ে বাণিজ্যিক লাভকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতাও সামনে এনেছে। তার অভিযোগ, এমন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ঘরোয়া লিগের সূচির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারত।
ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবার প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কের পর তার প্রতি বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ও জাতীয় ফেডারেশনের সমর্থন কতটা থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স