ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশ্ববাজারে নিতে নতুন উদ্যোগ

টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশ্ববাজারে নিতে নতুন উদ্যোগ
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাঁতপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

শনিবার (১ আগস্ট) তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শরীফুল আলম বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি ভবন বা অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতি, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রটিতে তাঁতিদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের শুধু সনদ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

টাঙ্গাইলের শাড়িকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে শরীফুল আলম বলেন, তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে।

‘এক গ্রাম, এক পণ্য—ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ ধারণাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশম এবং দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতিদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তাঁতপণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান শরীফুল আলম।

রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতিরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

তাঁতিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

টাঙ্গাইলের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শরীফুল আলম বলেন, মিলটি একসময় এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল।

ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির মাধ্যমে তাঁতিরা আধুনিক প্রশিক্ষণ নিয়ে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবেন। তাঁতিদের সহজ ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : টাঙ্গাইলের শাড়ি তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশ্ববাজারে নিতে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাঁতপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

শনিবার (১ আগস্ট) তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শরীফুল আলম বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি ভবন বা অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতি, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রটিতে তাঁতিদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের শুধু সনদ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

টাঙ্গাইলের শাড়িকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে শরীফুল আলম বলেন, তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে।

‘এক গ্রাম, এক পণ্য—ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ ধারণাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশম এবং দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতিদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তাঁতপণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান শরীফুল আলম।

রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতিরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

তাঁতিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

টাঙ্গাইলের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শরীফুল আলম বলেন, মিলটি একসময় এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল।

ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির মাধ্যমে তাঁতিরা আধুনিক প্রশিক্ষণ নিয়ে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবেন। তাঁতিদের সহজ ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ