কক্সবাজারের উখিয়ায় গত ১৪ মাসে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে ২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার এবং ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) এসব তথ্য জানান ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উখিয়া, কক্সবাজারের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ।
৮ এপিবিএনের মিডিয়া সেলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ মে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৪ মাসে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় ৭১টি মামলায় মোট ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা মামলায় ২২ জন, অস্ত্র মামলায় আটজন, অপহরণ মামলায় ১২ জন, মাদক মামলায় ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলায় দুজন এবং চুরি মামলায় পাঁচজন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন বয়সের অপহৃত ১৩ নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ৮ এপিবিএন। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৪ মাসের অভিযানে ২ লাখ ৪ হাজার ৩১টি ইয়াবা, একটি সাবমেশিন গান, একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান এবং দুটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ৩০টি গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, তিনটি কার্তুজ ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে এপিবিএন।
মাদকদ্রব্যের মধ্যে দুই কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া এবং ১৩ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে একটি ওয়াকিটকি সেটও জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকাসহ মাদক বিক্রি ও অন্যান্য অপরাধসংশ্লিষ্ট মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি এফডিএমএন কক্সবাজারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দলভিত্তিক মারামারি ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক নির্যাতন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।