ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবারের এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামানের গোলা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়। নাবাতিয়াহ জেলায় ১৬ জন এবং সাইদা জেলায় আরও কয়েকজন নিহত হন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বারিচ শহরে একই পরিবারের বাবা-মা ও দুই সন্তানসহ চারজন নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ৫০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপের জবাবে তারা “কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করেছে এবং বলেছে যে চলমান হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন লেবাননে চলমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়াও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই পক্ষের মধ্যে মূল বিরোধ—দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ—এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও জরুরি কর্মীরা চরম চাপের মুখে রয়েছেন। অনেক স্থানে মৃতদেহ সরাসরি মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে স্থান সংকুলান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে শুক্রবারের সহিংসতায়ও বহু প্রাণহানি ঘটে, যেখানে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানায়। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও তাদের কয়েকজন সৈন্য নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সীমান্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত রয়ে গেছে এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র : রয়টার্স