ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাংহাইভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, একটি রুশ এয়ার কার্গো কোম্পানি এবং কয়েকজন জেনারেল সেলস এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক জে হিলোটিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের পক্ষগুলোকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ এবং বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক চাপও বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া, তৃতীয় কোনো দেশের ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেও সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঝুঁকি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মাহান এয়ার নিজেকে একটি বেসামরিক বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিলেও, দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য এবং সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিবহনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকার কিংবা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, পশ্চিমা সংস্থাগুলোর দাবি, আইআরজিসি শুধু সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাই করে না, বরং অবকাঠামো, জ্বালানি, রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি ছায়া তেল বাণিজ্য, ভুয়া কোম্পানি, চোরাচালান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে উঠে এসেছে।
সূত্র : গালফ নিউজ