ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জিম্বাবুয়েতে মিলল ২১ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের প্রজাতি

জিম্বাবুয়েতে মিলল ২১ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের প্রজাতি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

জিম্বাবুয়ের উত্তরাঞ্চলে কারিবা হ্রদের তীরে পাওয়া জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে নতুন একটি ডাইনোসর প্রজাতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। Musango matusadonaensis নামের প্রজাতিটি প্রায় ২১ কোটি বছর আগে লেট ট্রায়াসিক যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত।

ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল প্রজাতিটি শনাক্ত করেছে। ২০১৮ সালে নৌকাভিত্তিক অভিযানের সময় কারিবা হ্রদের পাড়ে এর জীবাশ্ম পাওয়া যায়। এটি জিম্বাবুয়েতে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে নামকরণ করা পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি।

গবেষকদের মতে, মুসাঙ্গো ছিল সোরোপোডোমর্ফ গোষ্ঠীর ডাইনোসর। পরবর্তী যুগের বিশালাকৃতির ডিপ্লোডোকাসের মতো লম্বা গলার ডাইনোসরদের প্রাচীন আত্মীয় হলেও এটি চার পায়ের বদলে দুই পায়ে চলাচল করত।

ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল আনুমানিক সাড়ে চার মিটার এবং ওজন প্রায় ২২২ কেজি। তুলনামূলকভাবে হালকা গড়নের এই প্রাণীটি মৃত্যুর সময় প্রায় আট বছর বয়সী এবং প্রায় পূর্ণবয়স্ক ছিল বলে হাড় পরীক্ষা করে ধারণা করা হয়েছে।

জীবাশ্মের মধ্যে মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের বিভিন্ন হাড় পাওয়া গেছে। মাথার খুলি না পাওয়ায় এর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা যায়নি। তবে নিকটাত্মীয় প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এটি তৃণভোজী অথবা সর্বভুক হয়ে থাকতে পারে।

হাড়ের পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, জীবিত অবস্থায় প্রাণীটি গুরুতর কোনো আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছিল। গবেষকদের ধারণা, এটি প্রাচীন নদী ও জলধারার আশপাশের উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকত।

স্থানীয় চিশোনা ভাষায় ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী। প্রত্যন্ত এলাকায় জীবাশ্মটি পাওয়ার কারণে এই নাম দেওয়া হয়েছে। প্রজাতির দ্বিতীয় অংশ ‘মাতুসাডোনায়েনসিস’ কাছের মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্কের নাম থেকে নেওয়া হয়েছে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক অধ্যাপক পল ব্যারেট বলেন, আগে ধারণা করা হতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় একই ধরনের ডাইনোসর বাস করত। কিন্তু সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রাচীন গন্ডোয়ানা মহাদেশের এই অংশে আলাদা আলাদা বাস্তুতন্ত্র ছিল এবং প্রতিটি এলাকায় ভিন্ন ধরনের প্রাণী বসবাস করত।

গবেষকদের মতে, আফ্রিকার জীবাশ্ম ক্ষেত্রগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তুলনায় অনেক কম অনুসন্ধান করা হয়েছে। ফলে জিম্বাবুয়েসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও অজানা ডাইনোসর প্রজাতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণাটি Journal of Systematic Palaeontology-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়েতে প্রায় ২৩ কোটি বছর আগের Mbiresaurus raathi নামের একটি প্রাচীন ডাইনোসর প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছিল।

সূত্র : ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম

ট্যাগ : জিম্বাবুয়ে ডাইনোসর

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিম্বাবুয়েতে মিলল ২১ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের প্রজাতি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

জিম্বাবুয়ের উত্তরাঞ্চলে কারিবা হ্রদের তীরে পাওয়া জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে নতুন একটি ডাইনোসর প্রজাতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। Musango matusadonaensis নামের প্রজাতিটি প্রায় ২১ কোটি বছর আগে লেট ট্রায়াসিক যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত।

ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল প্রজাতিটি শনাক্ত করেছে। ২০১৮ সালে নৌকাভিত্তিক অভিযানের সময় কারিবা হ্রদের পাড়ে এর জীবাশ্ম পাওয়া যায়। এটি জিম্বাবুয়েতে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে নামকরণ করা পঞ্চম ডাইনোসর প্রজাতি।

গবেষকদের মতে, মুসাঙ্গো ছিল সোরোপোডোমর্ফ গোষ্ঠীর ডাইনোসর। পরবর্তী যুগের বিশালাকৃতির ডিপ্লোডোকাসের মতো লম্বা গলার ডাইনোসরদের প্রাচীন আত্মীয় হলেও এটি চার পায়ের বদলে দুই পায়ে চলাচল করত।

ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল আনুমানিক সাড়ে চার মিটার এবং ওজন প্রায় ২২২ কেজি। তুলনামূলকভাবে হালকা গড়নের এই প্রাণীটি মৃত্যুর সময় প্রায় আট বছর বয়সী এবং প্রায় পূর্ণবয়স্ক ছিল বলে হাড় পরীক্ষা করে ধারণা করা হয়েছে।

জীবাশ্মের মধ্যে মেরুদণ্ড, পাঁজর, সামনের ও পেছনের পা এবং পায়ের বিভিন্ন হাড় পাওয়া গেছে। মাথার খুলি না পাওয়ায় এর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা যায়নি। তবে নিকটাত্মীয় প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এটি তৃণভোজী অথবা সর্বভুক হয়ে থাকতে পারে।

হাড়ের পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, জীবিত অবস্থায় প্রাণীটি গুরুতর কোনো আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছিল। গবেষকদের ধারণা, এটি প্রাচীন নদী ও জলধারার আশপাশের উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকত।

স্থানীয় চিশোনা ভাষায় ‘মুসাঙ্গো’ শব্দের অর্থ ঝোপঝাড়ে বসবাসকারী। প্রত্যন্ত এলাকায় জীবাশ্মটি পাওয়ার কারণে এই নাম দেওয়া হয়েছে। প্রজাতির দ্বিতীয় অংশ ‘মাতুসাডোনায়েনসিস’ কাছের মাতুসাডোনা ন্যাশনাল পার্কের নাম থেকে নেওয়া হয়েছে।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক অধ্যাপক পল ব্যারেট বলেন, আগে ধারণা করা হতো দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় একই ধরনের ডাইনোসর বাস করত। কিন্তু সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রাচীন গন্ডোয়ানা মহাদেশের এই অংশে আলাদা আলাদা বাস্তুতন্ত্র ছিল এবং প্রতিটি এলাকায় ভিন্ন ধরনের প্রাণী বসবাস করত।

গবেষকদের মতে, আফ্রিকার জীবাশ্ম ক্ষেত্রগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তুলনায় অনেক কম অনুসন্ধান করা হয়েছে। ফলে জিম্বাবুয়েসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও অজানা ডাইনোসর প্রজাতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণাটি Journal of Systematic Palaeontology-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে জিম্বাবুয়েতে প্রায় ২৩ কোটি বছর আগের Mbiresaurus raathi নামের একটি প্রাচীন ডাইনোসর প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছিল।

সূত্র : ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ