হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে পিপল জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে কেটি মিলার ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং গুগলের জেমিনির সমালোচনা করে আসছেন। একই সময়ে তিনি ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রশংসা করেছেন।
তবে পরে জানা যায়, কেটি মিলারের কাছে এক্সএআইয়ের ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের শেয়ার রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি এসব শেয়ার কিনেছিলেন বলে আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার কেনার পর গত নয় মাসে কেটি তার এক্স অ্যাকাউন্ট ও পডকাস্টে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও ক্লডের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সমালোচনামূলক পোস্ট করেছেন। তিনি এসব এআই মডেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, শিশুদের জন্য ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার দুর্বলতার অভিযোগ তুলেছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর এক পোস্টে কেটি চ্যাটজিপিটির সমালোচনা করে দাবি করেন, এআই মডেলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখিয়েছে।
বিতর্কের মূল বিষয় হলো, এক্সএআইতে নিজের আর্থিক স্বার্থের কথা উল্লেখ না করেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করেছেন কি না।
মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রচার বা সমর্থনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক সম্পর্ক থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত।
কেটি মিলার অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। তার ভাষ্য, তিনি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক এবং নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।
ইলন মাস্কের সঙ্গে কেটি মিলারের সম্পর্ক শুধু বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) কার্যক্রমের সময় কেটি তার উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি এক্সএআইয়ের পরামর্শক হিসেবেও যুক্ত হন। ফলে এক্সএআইয়ে তার বড় বিনিয়োগ এবং একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা নতুন করে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে।