আলজেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলির স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন খালিদা বউফেদেশ। এর মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকার দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হলেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী আলজিয়ার্সে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। পেশায় অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ বউফেদেশ রাজধানী আলজিয়ার্সের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
তিনি ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৪০৭ সদস্যের ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলিতে ৯১টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হয়েছে এফএলএন। তবে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বউফেদেশ স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি এমন একটি আইনসভার নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন, যেখানে নারী সদস্যের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম।
বর্তমান পার্লামেন্টের ৪০৭ সদস্যের মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র ২৫ জন। এটি মোট আসনের প্রায় ৬ শতাংশ। আগের পার্লামেন্টে নারী সদস্যের সংখ্যা ছিল ৩৮।
২০১৭ সালের নির্বাচনে নারী কোটা কার্যকর থাকায় ১১৮ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং কোটা বাতিলের ফলে পার্লামেন্টে নারীদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বউফেদেশের নির্বাচন আলজেরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে আইনসভায় নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে দেশটিকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।