বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা।
বৈঠকে মন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের সহযোগিতা দেশের অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ নিরাপদ, আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাপানের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি এবং কারিগরি দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের সড়ক, রেল ও গণপরিবহনব্যবস্থা আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার। একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও জনবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাপানের সহযোগিতা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার পরিধি বাড়বে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক এবং টেকসই গণপরিবহন অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।
উনো ইয়োশিমাসা বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে মেট্রোরেল, রেল যোগাযোগ, সড়ক পরিবহন এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভবিষ্যতে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম উপস্থিত ছিলেন।