ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সময় ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সাইবার হুমকি, তথ্যযুদ্ধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ নানা ধরনের জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ কারণে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। জনগণের ঐক্য, জাতীয় প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সংকট মোকাবিলার সামগ্রিক শক্তিও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তারেক রহমান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিরক্ষা ভাবনার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এই কাঠামোর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প খাত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, এই নীতির উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়। বরং যেকোনো আগ্রাসন, সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত, স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।

বর্তমান যুগে যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নিরাপত্তা কেবল ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার জগৎ, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুধু সম্প্রসারণের বদলে কার্যকারিতা, নতুন প্ল্যাটফর্ম কেনার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীনির্ভরতার পরিবর্তে তিন বাহিনীর যৌথ কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা। পাশাপাশি সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হবে।

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সাফল্য তাকে গর্বিত করে। আবার বাহিনীকে ঘিরে কোনো নেতিবাচক সংবাদ এলে তিনি অস্বস্তি অনুভব করেন। সেনানিবাসের পরিবেশের সঙ্গে নিজের শৈশব ও তারুণ্যের স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবেশের নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যেই তিনি বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বড় হয়েছেন। এ কারণে সেনাবাহিনীকে তিনি নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গভীরভাবে যুক্ত। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ও দুর্গম অঞ্চলে প্রায় এক হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ডার রোড নির্মাণের কাজ নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি জানান, পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় এক হাজার ২০০ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলছে। শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিহত ২১৭ জন সেনাসদস্যের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানান।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করেছে।

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশি সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তিনি। দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং নির্বাচন পরিচালনায় সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান, বন্যা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর অবদানও প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।

পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস এবং ব্যক্তিত্বকেও পদোন্নতির গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিকালে যত বেশি ঘাম ঝরানো যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে তত কম রক্ত ঝরে। তাই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে বাছাই করা কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরব, সাফল্য ও পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী করবেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হলো দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

ট্যাগ : জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

সময় ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি আধুনিক, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সাইবার হুমকি, তথ্যযুদ্ধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ নানা ধরনের জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ কারণে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। জনগণের ঐক্য, জাতীয় প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সংকট মোকাবিলার সামগ্রিক শক্তিও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তারেক রহমান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিরক্ষা ভাবনার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এই কাঠামোর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প খাত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, এই নীতির উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়। বরং যেকোনো আগ্রাসন, সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত, স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।

বর্তমান যুগে যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নিরাপত্তা কেবল ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার জগৎ, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুধু সম্প্রসারণের বদলে কার্যকারিতা, নতুন প্ল্যাটফর্ম কেনার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীনির্ভরতার পরিবর্তে তিন বাহিনীর যৌথ কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা। পাশাপাশি সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হবে।

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সাফল্য তাকে গর্বিত করে। আবার বাহিনীকে ঘিরে কোনো নেতিবাচক সংবাদ এলে তিনি অস্বস্তি অনুভব করেন। সেনানিবাসের পরিবেশের সঙ্গে নিজের শৈশব ও তারুণ্যের স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবেশের নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যেই তিনি বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বড় হয়েছেন। এ কারণে সেনাবাহিনীকে তিনি নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গভীরভাবে যুক্ত। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ও দুর্গম অঞ্চলে প্রায় এক হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ডার রোড নির্মাণের কাজ নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি জানান, পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় এক হাজার ২০০ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলছে। শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে নিহত ২১৭ জন সেনাসদস্যের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানান।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান অর্জন করেছে।

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশি সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তিনি। দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং নির্বাচন পরিচালনায় সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান, বন্যা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনীর অবদানও প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত।

পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস এবং ব্যক্তিত্বকেও পদোন্নতির গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিকালে যত বেশি ঘাম ঝরানো যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে তত কম রক্ত ঝরে। তাই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে বাছাই করা কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরব, সাফল্য ও পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী করবেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হলো দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ