ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

 দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর কোনো অর্থ সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে বর্তমানে ৮০ লাখের বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন, যা বৈশ্বিকভাবে সর্বোচ্চ।

বহু বছর ধরে এইচআইভি মোকাবিলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হতো ‘প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ’ (PEPFAR) কর্মসূচির মাধ্যমে, যা বিশ্বব্যাপী এইচআইভি প্রতিরোধে অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইঙ্গিত অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের বিষয়ে দেশটির নীতিগত অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এসব অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, দেশে কোনো বর্ণভিত্তিক বৈষম্য বা নিপীড়ন চলছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগে থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত উদ্বেগগুলো মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তাই ধাপে ধাপে এই অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তাদের নিজস্ব সক্ষমতায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার সামর্থ্য রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, এইচআইভি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের বেশিরভাগ অর্থায়ন সরাসরি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয় এবং সরকার নিজস্ব বাজেট থেকেই বড় অংশ বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ হলে দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে চাপ বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকা এইচআইভি

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর কোনো অর্থ সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে বর্তমানে ৮০ লাখের বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন, যা বৈশ্বিকভাবে সর্বোচ্চ।

বহু বছর ধরে এইচআইভি মোকাবিলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হতো ‘প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ’ (PEPFAR) কর্মসূচির মাধ্যমে, যা বিশ্বব্যাপী এইচআইভি প্রতিরোধে অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইঙ্গিত অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের বিষয়ে দেশটির নীতিগত অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এসব অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, দেশে কোনো বর্ণভিত্তিক বৈষম্য বা নিপীড়ন চলছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগে থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত উদ্বেগগুলো মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তাই ধাপে ধাপে এই অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তাদের নিজস্ব সক্ষমতায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার সামর্থ্য রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, এইচআইভি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের বেশিরভাগ অর্থায়ন সরাসরি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয় এবং সরকার নিজস্ব বাজেট থেকেই বড় অংশ বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ হলে দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে চাপ বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ