তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করতে একযোগে কাজ করছে। তিনি শিবসেনা ও এনসিপির ভাঙনের উদাহরণ টেনে তৃণমূলের বর্তমান বিরোধের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এগুলো রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশন বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব জনগণের রায়কে সুরক্ষা দেওয়া। তার অভিযোগ, কমিশন সেই দায়িত্ব পালনের বদলে এমন শক্তিকে সহায়তা করছে, যারা বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করছে। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভোটচুরি, সরকারচুরি, এখন দলচুরি’ বলে আখ্যা দেন।
বৃহস্পতিবার রাতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জানায়, তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গোষ্ঠী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের ভাষ্য, উভয় পক্ষই নিজেদের আসল দল দাবি করায় অন্তর্বর্তীভাবে সমান অবস্থানে রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এরপর দুই পক্ষকে নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে বলা হয়। শুক্রবার কমিশন মমতা শিবিরকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেয়। প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল, আম আদমি পার্টি ও সমাজবাদী পার্টির নেতারাও কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি রাহুলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, তৃণমূল নিজেই কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গড়ে উঠেছিল।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস