রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্র ও সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সোমবার (১৩ জুলাই) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র ও আশপাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিবির নেতারা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি অতিক্রম করে, আবার কোথাও নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে।
তাদের মতে, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি এবং অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করায় শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান দুর্যোগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার জটিলতা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষার সময়সূচি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংকটের সময় শিক্ষার্থীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তারা।
মন্তব্যসমূহ