ইরানের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপসহ হরমোজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলেছে, অভিযানে ইরানের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং বিপ্লবী গার্ডের ছোট নৌযান। হামলায় যুদ্ধবিমান ও নৌযানের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একমুখী আকাশ ও সমুদ্র হামলাকারী ড্রোন ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে সেন্টকম।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানি সক্ষমতা দুর্বল করতেই নতুন অভিযান শুরু করা হয়েছে। এর আগের দিন ইরানের ১৪০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছিল ওয়াশিংটন।
মার্কিন হামলার পর কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটির জ্বালানি ও গোলাবারুদ স্থাপনা, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিমান হ্যাঙ্গার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইরানের পাল্টা হামলার ঘোষণার পর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেয়। ইরানের হামলা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক, সিরিক, কেশম ও বন্দর আব্বাসে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। কয়েকটি এলাকায় বেসামরিক হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
তবে খুজেস্তান প্রদেশের মাশহরে একটি কৃষি সেচকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের মধ্যেই নতুন করে এ পাল্টাপাল্টি হামলা হলো। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল কমেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ