টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষীরা। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘী, জলাশয় ও মাছের ঘের প্লাবিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯১ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও চন্দনাইশসহ চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ভারী বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘী ও জলাশয় এবং ৩২০টি মাছের ঘের পানির নিচে চলে গেছে। প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১১১ হেক্টর জলাশয়।
প্রাথমিক জরিপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে বাঁশখালী উপজেলায়। এরপর রয়েছে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া, যেখানে তিন হাজারের বেশি পুকুর ও জলাশয় প্লাবিত হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের প্রভাবে জেলার ১৫টি উপজেলাতেই মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৯১ কোটিরও বেশি।
জরিপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্লাবিত জলাশয়গুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ১২৩ টন বড় মাছ, ৫৭০ টন চিংড়ি এবং প্রায় ৬০ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে। এতে অনেক খামারি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বাঁশখালীতে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সাতকানিয়ায় ১১ কোটি টাকা, লোহাগাড়ায় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা, কর্ণফুলী ও চন্দনাইশে প্রায় ৬ কোটি টাকা করে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মাছ ভেসে যাওয়ার কারণে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার এবং মাছের পোনা নষ্ট হওয়ায় আরও প্রায় ২৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
মন্তব্যসমূহ