চীনের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী যৌথ আকাশ ও নৌ মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর মধ্যেই এই মহড়া শুরু হলো।
সোমবার চীনের চিংদাও শহরের জলসীমা ও আকাশসীমায় যৌথ মহড়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএর তথ্য অনুযায়ী, মহড়াটি চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়া তার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর থেকে একটি ক্রুজার, একটি করভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাশিয়ার রিয়ার অ্যাডমিরাল সের্গেই সিনকো বলেন, এই অনুশীলন মস্কো ও বেইজিংয়ের নৌসহযোগিতাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাবে। তার দাবি, মহড়াটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক।
এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া ও চীনের যৌথ মহড়া কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি অঞ্চলের কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করেও পরিচালিত হচ্ছে না।
তিনি বলেন, রাশিয়া-চীনের এ ধরনের অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক উপস্থিতি, তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-চীনের এই মহড়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ