ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী শোক ও দাফন আনুষ্ঠানিকতার দ্বিতীয় দিনে আজ রোববার তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে জানাজায় কে ইমামতি করবেন, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রাজধানীতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন বলে ইরানি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানে দীর্ঘ শোক ঘোষণা করা হয়।
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই হামলায় তিনি আহত হয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি।
জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শোকানুষ্ঠানের প্রথম দিন শনিবার কালো পোশাক পরা লাখো মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল ইরানের পতাকা ও শোকের প্রতীক ব্যানার। সমবেত জনতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তেহরানে জানাজা ও শোকমিছিলের পর খামেনির মরদেহ কোমে নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান শেষে মরদেহ ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে নেওয়া হবে। সেখানেই ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
মন্তব্যসমূহ