যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন খোদ তাঁর নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা।
৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল পরিষ্কার হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের দলীয় মিত্র ও প্রবীণ উপদেষ্টারা হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের রদবদল, প্রশাসনে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত বিতর্কিত নীতিগুলো অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। রিপাবলিকানদের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধ এবং বিতর্কিত বৈশ্বিক বাণিজ্য শুল্ক (Tariff) আরোপের মতো চরম পদক্ষেপগুলোই মূলত সাধারণ ভোটারদেরকে রিপাবলিকানদের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছে।
প্রবীণ রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ জন ফিহেরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই নির্বাচনী ফলাফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্বের জন্য ‘এক বিরাট বিপর্যয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘প্রশাসনে এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন এনে আবর্জনা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এই মুহূর্ত থেকে পরবর্তী প্রতিটি দিন ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে ক্রমশ ক্ষমতাহীন ও প্রভাবহীন (Lame Duck) হয়ে পড়বেন।’
তবে নিজ দলের এমন প্রকাশ্য সমালোচনা ও বিপর্যয় সত্ত্বেও নিজের ভুল স্বীকার করতে নারাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমি এই ফলাফলকে কোনোভাবেই আমার বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখছি না।’ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং পরিস্থিতি এলে তিনি আবারও একই পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে চরম রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে চলেছে। ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের যেকোনো আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়া, মন্ত্রিসভার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম তদন্ত করা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিশংসন ও নিয়োগের বিরোধিতা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কংগ্রেসের হাত থেকে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ায় ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের বাকি দিনগুলোতে নির্বাহী আদেশের (Executive Order) ওপর আরও বেপরোয়াভাবে নির্ভর করতে পারেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে দলের অভ্যন্তরীণ উত্তরসূরিদের মধ্যে। ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রধান প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যেই ইরান যুদ্ধকে দলের এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যে হেরেছি তার কারণ যুদ্ধ।’ এর মাধ্যমে ভ্যান্স কার্যত ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি থেকে নিজেকে সরাসরি দূরে সরিয়ে নেওয়ার সাহসী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দলীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের একক ক্যারিশমা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার বাস্তবতা স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথে ২০২৮-এর দৌড়ে থাকা আরও অনেক রিপাবলিকান নেতাই ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
সূত্র: রয়টার্স














মন্তব্যসমূহ