জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের সরবরাহে তুলনামূলক ধীরগতির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বাড়ছে ডলারের দাম, থমকে গেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারাও।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, গত দুদিনে কয়েকটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে মঙ্গলবার ১০ কোটি ডলার বিক্রির নিলাম আয়োজনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে নিলামটি বাতিল করা হয়। এ সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ব্যাংকারদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। বিপরীতে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড় প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ১৪৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি ডলার।
তবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র আরও উদ্বেগজনক। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ডলারের বাজারে চাপ বাড়ার সঙ্গে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। মঙ্গলবার দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্যসমূহ