যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও বহুল প্রতীক্ষিত মিশিগান সিনেট আসনের ভোট গণনায় শক্ত ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আব্দুল এল-সায়েদ। ভোট গণনার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ৪১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের বিজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে উচ্চকক্ষ সিনেটে নির্বাচিত ‘প্রথম মুসলিম সিনেটর’ হিসেবে নাম লিখিয়ে অনন্য এক ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ভোটের আনুমানিক ৭০ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৪ ভোট, যা গণনাকৃত মোট ভোটের প্রায় ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭০৭ ভোট (৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ)। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি হওয়ায় মার্কিন শীর্ষ গণমাধ্যম ও নির্বাচন বিশ্লেষকেরা ইতিমধ্যে এই আসনে আব্দুল এল-সায়েদের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে।
তবে সিনেট নির্বাচনে এল-সায়েদের এই ঐতিহাসিক জয়ের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। দলীয় প্রাইমারিতে জয় পেয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর থেকেই তাঁকে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে তাঁরই দলের কংগ্রেসওম্যান হেলি স্টিভেনস প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। প্রাইমারিতে এল-সায়েদের কাছে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই স্টিভেনস এই নজিরবিহীন দলবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহেও বিচলিত না হয়ে উজ্জীবিতভাবে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন এল-সায়েদ।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিরোধী শিবির তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটাক্ষ চালায়। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে তাঁকে ‘জঙ্গি’ ও ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিদ্বেষ ছড়ান। তবে এসব উসকানির জবাবে এল-সায়েদ বরাবরই মিশিগানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন। এক নির্বাচনী ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “আমি কেবল একজন মুসলিম সিনেটর হতে নির্বাচনে দাঁড়াইনি, বরং মিশিগানের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই লড়াই করছি।”
উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সিনেটর প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রতি দুই বছর পর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে মধ্যবর্তী ভোট অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক ফিগার হলো ৫০টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৫৩টি আসন পেয়ে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভয়াবহ ভরাডুবিতে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। স্মরণীয় এই নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে অন্তত ৫৪টি আসন নিশ্চিত করে সিনেটে একচ্ছত্র ও শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করেছে।
মন্তব্যসমূহ