ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কাতারের এমন উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করতে পারত না: ট্রাম্প

কাতারের এমন উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করতে পারত না: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার সরকারের দেওয়া নতুন বিলাসবহুল বোয়িং উড়োজাহাজে প্রথমবারের মতো উঠলেন। এটিকে তিনি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। উড়োজাহাজটি নিয়ে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারত না।

বুধবার (১ জুলাই) উত্তর ডাকোটায় ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি আমার প্রথম যাত্রা, আর আমি খুবই উত্তেজিত।

কোনো শর্ত ছাড়াই কাতারের দেওয়া এই উড়োজাহাজের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ডলার। উপহার হিসেবে গ্রহণ নিয়ে আইনি, নৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন উঠেছে। উড়োজাহাজটির রং করা হয়েছে সাদা, লাল ও গাঢ় নীল রঙে। এর ভেতরের সাজসজ্জা ট্রাম্পের আগের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়।

ট্রাম্প বলেন, তারা খুব সুন্দর করে কাজটা শেষ করেছে। এটাকে একজন প্রেসিডেন্টের উপযুক্ত করে তুলেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক সুবিধা সবকিছুই অসাধারণ। এটা সত্যিই জটিল প্রযুক্তির এক অসাধারণ উড়োজাহাজ।

বোয়িং কোম্পানির তৈরি এই বিমানটি শুরু থেকেই বিতর্কে ছিল। ট্রাম্প যখন প্রথম উপহার নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, তখনই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ট্রাম্প প্রেসিডেন্সি শেষে এটি তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করার পরিকল্পনা করেছিলেন। অবশেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে উপহার দেওয়া হয়।

ট্রাম্প আরও জানান, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী তাকে বলেছিলেন যে কাতারের এই উড়োজাহাজটিই সেরা। পরে তিনি কাতারের কাছে সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি চাইলে কাতারের আমির এটি পুরোপুরি উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।

গত মাসে যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে উড়োজাহাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল উড়োজাহাজ বলে অভিহিত করেন। ভেতরে রয়েছে সমতল করে শোয়ার মতো চামড়ার আসন, প্রেসিডেন্টের প্রতীকযুক্ত নিরাপত্তা বেল্ট, হালকা বাদামি রঙের দেওয়াল ও কার্পেট এবং সোনালি আলোর ব্যবস্থা।

বুধবারের ফ্লাইটে সাংবাদিকদের জন্য পরিবেশন করা হয় হ্যাম পনির ক্রোয়াসাঁ, সবুজ সালাদ ও ফল। খাবার পরিবেশন করা হয় প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল প্রতীকযুক্ত সোনালি সাদা পাত্রে।

প্রসঙ্গত, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান (বোয়িং ৭৪৭-২০০) ১৯৯০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। নতুন দুটি উড়োজাহাজ তৈরি হতে এখনও দুই বছর লাগবে। সেই সময়ের ব্যবধান পূরণ করতে বোয়িং ৭৪৭-৮০০ মডেলের দুটি বিমানকে ভিসি-২৫বি সংস্করণে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কাতারের এই উপহারকৃত উড়োজাহাজটিও ব্যবহার করা হবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, এ ধরনের উড়োজাহাজ আগে কখনো দেখা যায়নি। সত্যি বলতে, এত টাকা খরচ করে আমরা এমন বিমান তৈরি করতে চাইতাম না। কিন্তু তারা (কাতার) সর্বোচ্চ খরচ করেছে।

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার বিমান যুক্ত্ররাষ্ট্র উড়োজাহাজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কাতারের এমন উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করতে পারত না: ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার সরকারের দেওয়া নতুন বিলাসবহুল বোয়িং উড়োজাহাজে প্রথমবারের মতো উঠলেন। এটিকে তিনি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। উড়োজাহাজটি নিয়ে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারত না।

বুধবার (১ জুলাই) উত্তর ডাকোটায় ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি আমার প্রথম যাত্রা, আর আমি খুবই উত্তেজিত।

কোনো শর্ত ছাড়াই কাতারের দেওয়া এই উড়োজাহাজের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ডলার। উপহার হিসেবে গ্রহণ নিয়ে আইনি, নৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন উঠেছে। উড়োজাহাজটির রং করা হয়েছে সাদা, লাল ও গাঢ় নীল রঙে। এর ভেতরের সাজসজ্জা ট্রাম্পের আগের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়।

ট্রাম্প বলেন, তারা খুব সুন্দর করে কাজটা শেষ করেছে। এটাকে একজন প্রেসিডেন্টের উপযুক্ত করে তুলেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক সুবিধা সবকিছুই অসাধারণ। এটা সত্যিই জটিল প্রযুক্তির এক অসাধারণ উড়োজাহাজ।

বোয়িং কোম্পানির তৈরি এই বিমানটি শুরু থেকেই বিতর্কে ছিল। ট্রাম্প যখন প্রথম উপহার নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, তখনই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ট্রাম্প প্রেসিডেন্সি শেষে এটি তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করার পরিকল্পনা করেছিলেন। অবশেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে উপহার দেওয়া হয়।

ট্রাম্প আরও জানান, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী তাকে বলেছিলেন যে কাতারের এই উড়োজাহাজটিই সেরা। পরে তিনি কাতারের কাছে সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি চাইলে কাতারের আমির এটি পুরোপুরি উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।

গত মাসে যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে উড়োজাহাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল উড়োজাহাজ বলে অভিহিত করেন। ভেতরে রয়েছে সমতল করে শোয়ার মতো চামড়ার আসন, প্রেসিডেন্টের প্রতীকযুক্ত নিরাপত্তা বেল্ট, হালকা বাদামি রঙের দেওয়াল ও কার্পেট এবং সোনালি আলোর ব্যবস্থা।

বুধবারের ফ্লাইটে সাংবাদিকদের জন্য পরিবেশন করা হয় হ্যাম পনির ক্রোয়াসাঁ, সবুজ সালাদ ও ফল। খাবার পরিবেশন করা হয় প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল প্রতীকযুক্ত সোনালি সাদা পাত্রে।

প্রসঙ্গত, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান (বোয়িং ৭৪৭-২০০) ১৯৯০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। নতুন দুটি উড়োজাহাজ তৈরি হতে এখনও দুই বছর লাগবে। সেই সময়ের ব্যবধান পূরণ করতে বোয়িং ৭৪৭-৮০০ মডেলের দুটি বিমানকে ভিসি-২৫বি সংস্করণে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কাতারের এই উপহারকৃত উড়োজাহাজটিও ব্যবহার করা হবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, এ ধরনের উড়োজাহাজ আগে কখনো দেখা যায়নি। সত্যি বলতে, এত টাকা খরচ করে আমরা এমন বিমান তৈরি করতে চাইতাম না। কিন্তু তারা (কাতার) সর্বোচ্চ খরচ করেছে।

সূত্র: সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ