বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গো। শেষ ষোলোর এই লড়াইকে সামনে রেখে ইংলিশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। দলটির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড জানিয়েছেন, কোচ টমাস টুখেলের অধীনে খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন লড়াকু মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এখনো নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধ ছাড়া তাদের পারফরম্যান্স খুব বেশি দাপুটে ছিল না। ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর পানামার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয় পেলেও সেই ম্যাচেও ইংলিশদের খেলায় প্রত্যাশিত ঝলক দেখা যায়নি।
তবে নকআউট পর্বের আগে দলের আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন পিকফোর্ড। তাঁর ভাষায়, কোচ টুখেল খেলোয়াড়দের ভেতরে এমন বিশ্বাস তৈরি করেছেন, যা মাঠে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করবে। কৌশলগত মিটিংগুলোও খেলোয়াড়দের আরও উজ্জীবিত করছে বলে জানান তিনি।
ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেছেন পিকফোর্ড। নিজের কিছু ভুল স্বীকার করে তিনি জানান, একজন মনোবিদের সঙ্গে কাজ করায় তিনি মানসিকভাবে এখন আরও পরিণত ও স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে ডিআর কঙ্গো। দলটিতে কয়েকজন পরিচিত মুখ থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নিউক্যাসেল ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে তিন গোল করে দলটির আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি।
উইসা জানিয়েছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকায় নিজের সেরা ফুটবল খেলতে পারছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচেও তাঁর পারফরম্যান্স ডিআর কঙ্গোর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের একাদশে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পানামার বিপক্ষে চোট পাওয়া রাইট-ব্যাক জ্যারেল কুয়ানসাহর খেলা নিয়ে সংশয় আছে। তাঁর জায়গায় ডিজেড স্পেন্স অথবা জন স্টোন্সকে দেখা যেতে পারে। মিডফিল্ডে ফিরতে পারেন ডেক্লান রাইস। সে ক্ষেত্রে মর্গান রজার্সকে বেঞ্চে বসতে হতে পারে।
ডিআর কঙ্গোও রক্ষণভাগে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে মাঠে নামতে পারে। ব্রায়ান সিপেঙ্গার অনুপস্থিতিতে তারা পাঁচজনের রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, টমাস টুখেলের অধীনে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে বল দখলেও তারা ছিল অনেক এগিয়ে। ইংল্যান্ড যেখানে গড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখেছে, সেখানে ডিআর কঙ্গোর গড় বল দখল ছিল ৩৮ শতাংশের কিছু বেশি।
তবে নকআউট ম্যাচে পরিসংখ্যানের চেয়ে চাপ সামলানোই বড় বিষয়। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আফ্রিকান দলগুলোর রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। তবুও ইয়োয়ান উইসার ফর্ম এবং কঙ্গোর লড়াকু মানসিকতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
এই ম্যাচে গোল পেলে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ নকআউটে জিওফ হার্স্টের ৪ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। মাঝমাঠে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পারফরম্যান্সও ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্তি, অভিজ্ঞতা ও গভীরতার বিচারে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ডিআর কঙ্গোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নকআউটের মঞ্চে এক মুহূর্তের ভুলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
মন্তব্যসমূহ