ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যেসব সম্পর্ক ও কারণে ইমান ধ্বংস হয়ে যায়

যেসব সম্পর্ক ও কারণে ইমান ধ্বংস হয়ে যায়
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

মুসলিমদের জীবনে ইমান সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি শুধু একটি বিশ্বাস নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের মূল ভিত্তি। কিন্তু কিছু কাজ ও বিশ্বাস এমন আছে, যেগুলো মানুষকে ইমান থেকে বিচ্যুত করে দিতে পারে। কুরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে, যাতে একজন মুসলিম নিজের আকিদা ও আমলকে বিশুদ্ধ রাখতে পারে। নিচে ইমান নষ্ট বা ধ্বংসের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

ইমান ধ্বংসের ১০টি কারণ

১. আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা

আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করা ইমানের সবচেয়ে বড় ধ্বংসকারী কাজ। কুরআনের বাণী—

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৪৮)

২. আল্লাহ ও নিজের মাঝে মধ্যস্থতাকারী নির্ধারণ করে তাদের ওপর ভরসা করা

আল্লাহর পরিবর্তে কাউকে চূড়ান্ত নির্ভরতার কেন্দ্র বানানো ইমানকে দুর্বল করে। কুরআনের বাণী—

وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

‘যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা কর।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ২৩)

৩. কাফির বা মুশরিকদের কুফরিকে বৈধ মনে করা বা সন্দেহ করা

ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যকে অস্বীকার করা বা বিকৃতভাবে দেখা ইমান নষ্টের কারণ।

৪. নবী (সা.)-এর আদর্শের চেয়ে অন্য আদর্শকে শ্রেষ্ঠ মনে করা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ওপর অন্য কোনো মতবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইমানের পরিপন্থী। কুরআনের বাণী—

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ

‘রাসুল যা তোমাদের দেন তা গ্রহণ কর।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ৭)

৫. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিধানকে ঘৃণা করা

ইসলামের কোনো বিধানকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করা স্পষ্ট কুফরির লক্ষণ। কুরআনের বাণী—

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ

‘কারণ তারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা অপছন্দ করেছে।’ (সুরা মুহাম্মদ: আয়াত ৯)

৬. দ্বীন বা আল্লাহর শাস্তি-পুরস্কার নিয়ে ঠাট্টা করা

ইসলামের কোনো বিধানকে উপহাস করা ইমান ধ্বংস করে। কুরআনের বাণী—

قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ

‘তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াত ও রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে?’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৬৫)

৭. জাদু-টোনা (সিহর) করা

জাদু করা ও এতে বিশ্বাস রাখা গুরুতর কবিরা গুনাহ। হাদিসে পাকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো… তার মধ্যে জাদু-টোনা ‘সিহর’ অন্তর্ভুক্ত।’ (বুখারি ২৭৬৬)

আরও পড়ুনআরও পড়ুননবীজির (সা.) ঘোষণায় প্রকৃত বুদ্ধিমান কে?

৮. মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা

ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুদের সহযোগিতা ইমানের পরিপন্থী। কুরআনের বাণী— 

وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ

‘যে তাদেরকে বন্ধু বানাবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ৫১)

৯. শরিয়ত ছাড়া অন্য বিধান বৈধ মনে করা

ইসলামের বাইরে অন্য জীবনব্যবস্থাকে সমান বা শ্রেষ্ঠ মনে করা ইমানের জন্য হুমকি।

১০. আল্লাহর দ্বীন থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ থাকা

দ্বীন থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে যাওয়া ইমান হারানোর অন্যতম বড় কারণ। কুরআনের বাণী—

وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا

‘যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন সংকীর্ণ হবে।’ (সুরা ত্বাহা: আয়াত ১২৪)

ইমান শুধু মুখের স্বীকৃতি নয়, বরং বিশ্বাস, চিন্তা ও কর্মের সমন্বিত একটি জীবনব্যবস্থা। তাই একজন মুসলিমের উচিত প্রতিনিয়ত নিজের আকিদা ও আমল যাচাই করা এবং এমন সব কাজ ও বিশ্বাস থেকে দূরে থাকা, যা ইমানকে দুর্বল বা ধ্বংস করে দিতে পারে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় প্রার্থনা হওয়া উচিত— তিনি যেন আমাদের ইমানকে হেফাজত করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা দৃঢ় রাখেন।

ট্যাগ : ইসলাম হাদিস কুরআন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যেসব সম্পর্ক ও কারণে ইমান ধ্বংস হয়ে যায়

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মুসলিমদের জীবনে ইমান সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি শুধু একটি বিশ্বাস নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের মূল ভিত্তি। কিন্তু কিছু কাজ ও বিশ্বাস এমন আছে, যেগুলো মানুষকে ইমান থেকে বিচ্যুত করে দিতে পারে। কুরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে, যাতে একজন মুসলিম নিজের আকিদা ও আমলকে বিশুদ্ধ রাখতে পারে। নিচে ইমান নষ্ট বা ধ্বংসের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

ইমান ধ্বংসের ১০টি কারণ

১. আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা

আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করা ইমানের সবচেয়ে বড় ধ্বংসকারী কাজ। কুরআনের বাণী—

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৪৮)

২. আল্লাহ ও নিজের মাঝে মধ্যস্থতাকারী নির্ধারণ করে তাদের ওপর ভরসা করা

আল্লাহর পরিবর্তে কাউকে চূড়ান্ত নির্ভরতার কেন্দ্র বানানো ইমানকে দুর্বল করে। কুরআনের বাণী—

وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

‘যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা কর।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ২৩)

৩. কাফির বা মুশরিকদের কুফরিকে বৈধ মনে করা বা সন্দেহ করা

ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যকে অস্বীকার করা বা বিকৃতভাবে দেখা ইমান নষ্টের কারণ।

৪. নবী (সা.)-এর আদর্শের চেয়ে অন্য আদর্শকে শ্রেষ্ঠ মনে করা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ওপর অন্য কোনো মতবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইমানের পরিপন্থী। কুরআনের বাণী—

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ

‘রাসুল যা তোমাদের দেন তা গ্রহণ কর।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ৭)

৫. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিধানকে ঘৃণা করা

ইসলামের কোনো বিধানকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করা স্পষ্ট কুফরির লক্ষণ। কুরআনের বাণী—

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ

‘কারণ তারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা অপছন্দ করেছে।’ (সুরা মুহাম্মদ: আয়াত ৯)

৬. দ্বীন বা আল্লাহর শাস্তি-পুরস্কার নিয়ে ঠাট্টা করা

ইসলামের কোনো বিধানকে উপহাস করা ইমান ধ্বংস করে। কুরআনের বাণী—

قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ

‘তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াত ও রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে?’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৬৫)

৭. জাদু-টোনা (সিহর) করা

জাদু করা ও এতে বিশ্বাস রাখা গুরুতর কবিরা গুনাহ। হাদিসে পাকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো… তার মধ্যে জাদু-টোনা ‘সিহর’ অন্তর্ভুক্ত।’ (বুখারি ২৭৬৬)

আরও পড়ুনআরও পড়ুননবীজির (সা.) ঘোষণায় প্রকৃত বুদ্ধিমান কে?

৮. মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা

ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুদের সহযোগিতা ইমানের পরিপন্থী। কুরআনের বাণী— 

وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ

‘যে তাদেরকে বন্ধু বানাবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ৫১)

৯. শরিয়ত ছাড়া অন্য বিধান বৈধ মনে করা

ইসলামের বাইরে অন্য জীবনব্যবস্থাকে সমান বা শ্রেষ্ঠ মনে করা ইমানের জন্য হুমকি।

১০. আল্লাহর দ্বীন থেকে সম্পূর্ণ বিমুখ থাকা

দ্বীন থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে যাওয়া ইমান হারানোর অন্যতম বড় কারণ। কুরআনের বাণী—

وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا

‘যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন সংকীর্ণ হবে।’ (সুরা ত্বাহা: আয়াত ১২৪)

ইমান শুধু মুখের স্বীকৃতি নয়, বরং বিশ্বাস, চিন্তা ও কর্মের সমন্বিত একটি জীবনব্যবস্থা। তাই একজন মুসলিমের উচিত প্রতিনিয়ত নিজের আকিদা ও আমল যাচাই করা এবং এমন সব কাজ ও বিশ্বাস থেকে দূরে থাকা, যা ইমানকে দুর্বল বা ধ্বংস করে দিতে পারে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় প্রার্থনা হওয়া উচিত— তিনি যেন আমাদের ইমানকে হেফাজত করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা দৃঢ় রাখেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ