জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে বিরতিহীন ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।
এর আগে সকাল ৮টায় ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উপনির্বাচনে সামগ্রিকভাবে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে। সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।
নির্বাচনে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও কারচুপি প্রতিরোধে প্রতিটি কেন্দ্রে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ছাড়াও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৭ জন পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে সক্রিয় ছিল আনসার ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিশেষায়িত বাহিনী এসআরবি (সাবেক র্যাব)। কঠোর নজরদারির মধ্যে ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাকালে তিন শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর বা সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা)।
এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য হয় এবং এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
মন্তব্যসমূহ