ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্বোধনের আশা প্রতিমন্ত্রীর

২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্বোধনের আশা প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে খাল খনন কার্যক্রম ও ধরলা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরিতে দেশি-বিদেশি নদী বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়েছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে পরবর্তী প্রশাসনিক ও প্রকল্প অনুমোদনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

তাঁর আশা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করা গেলে আগামী বছরের নভেম্বরেই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

নদীভাঙন, বন্যা ও পানির সংকটের কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বছরের পর বছর সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে প্রকল্পের সুফল পেতে হলে পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি মহেন্দ্রনগর এলাকার চলমান খাল খনন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, খালটির কাজ শেষ করে আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ এবং হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

এসব কাজের মাধ্যমে খালটির কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খালটি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেচসুবিধা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্য উদ্বোধনের সময় জানালেও প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন বা নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সময়সূচি ঘোষণা করেননি।

ট্যাগ : লালমনিরহাট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তিস্তা মহাপরিকল্পনা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্বোধনের আশা প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে খাল খনন কার্যক্রম ও ধরলা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরিতে দেশি-বিদেশি নদী বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়েছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে পরবর্তী প্রশাসনিক ও প্রকল্প অনুমোদনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

তাঁর আশা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করা গেলে আগামী বছরের নভেম্বরেই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

নদীভাঙন, বন্যা ও পানির সংকটের কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বছরের পর বছর সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে প্রকল্পের সুফল পেতে হলে পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি মহেন্দ্রনগর এলাকার চলমান খাল খনন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, খালটির কাজ শেষ করে আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ এবং হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

এসব কাজের মাধ্যমে খালটির কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খালটি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেচসুবিধা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্য উদ্বোধনের সময় জানালেও প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন বা নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সময়সূচি ঘোষণা করেননি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ