ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও নতুন সরকার কে গঠন করবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের পক্ষেও প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন নেতানিয়াহু।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হয়। সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ৪২ দিন সময় দেওয়া হয়। তবে কোনো দল বা জোট প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্বে থাকতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। এ ধরনের সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতো হলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম প্রত্যাশা করা হয়।
বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৮টি। আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন, যা হবে রেকর্ডসংখ্যক।
এই আসন বিন্যাসে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সীমিত। তবে অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। ফলে বিরোধী জোটের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা আরও কঠিন হতে পারে।
নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে তাঁর বিরোধীদের যে শক্তিশালী অবস্থানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব ফলাফলে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে।
ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে এ ধরনের সরকারের কাছ থেকে সংযম প্রত্যাশা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কিংবা নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ