ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেতানিয়াহু-আইজেনকটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ইসরাইলের নির্বাচনে কে এগিয়ে?

নেতানিয়াহু-আইজেনকটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ইসরাইলের নির্বাচনে কে এগিয়ে?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক সেনাপ্রধান ও 'ইয়াশার' পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটের মধ্যে তীব্র ও সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তবে দেশটির আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে কোনো পক্ষই এককভাবে বা পূর্বনির্ধারিত জোটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের 'ম্যাজিক ফিগার' স্পর্শ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, নির্বাচনের পর দেশটিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জটিল দর-কষাকষি শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে জেরুজালেমের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সূচনা করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ও তাঁর স্ত্রী মিখাল। বিশেষ এ নির্বাচনে অংশ নিতে বিদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার প্রবাসী ইসরায়েলি দেশে ফিরেছেন এবং প্রায় ৫ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী ‘পরিবর্তনকামী জোটের’ প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মধ্যপন্থী নতুন দল ইয়াশার-এর প্রধান গাদি আইজেনকট। আদর্শিকভাবে বৈচিত্র্যময় এ জোটে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, চরম ডানপন্থী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান এবং বামঘেঁষা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়ার গোলান। তাঁদের আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রশ্নে তাঁরা এককাট্টা। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে অতি-ডানপন্থী ও কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যর্থতা। বিরোধী শিবির ওই হামলার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নেতানিয়াহুর ওপর চাপিয়ে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছে। বিপরীতে নেতানিয়াহু নিজেকে দেশের একমাত্র নিরাপত্তা অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন। এ ছাড়া অতি-রক্ষণশীল হরেদি ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়ানোর সরকারি নীতি নিয়েও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

নির্বাচনে আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের দুটি রাজনৈতিক জোটও অংশ নিচ্ছে, যা চূড়ান্ত সরকার গঠনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে ইহুদি প্রধান দলগুলো আরব জোটগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সরকার গঠনে অনিচ্ছুক। সামরিক বাহিনীর কয়েক লাখ সদস্যের ভোট গণনা শেষ হতে বুধবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা ফলাফলে বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সমর্থ না হলে এবং আলোচনায় কোনো সমঝোতা না এলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো আবারও সিরিজ নির্বাচনের বৃত্তে পড়তে পারে দেশটি; আর তেমনটি হলে নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল-জাজিরা 

ট্যাগ : বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল নির্বাচন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


নেতানিয়াহু-আইজেনকটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ইসরাইলের নির্বাচনে কে এগিয়ে?

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক সেনাপ্রধান ও 'ইয়াশার' পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটের মধ্যে তীব্র ও সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। তবে দেশটির আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে কোনো পক্ষই এককভাবে বা পূর্বনির্ধারিত জোটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের 'ম্যাজিক ফিগার' স্পর্শ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, নির্বাচনের পর দেশটিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জটিল দর-কষাকষি শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে জেরুজালেমের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সূচনা করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ও তাঁর স্ত্রী মিখাল। বিশেষ এ নির্বাচনে অংশ নিতে বিদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার প্রবাসী ইসরায়েলি দেশে ফিরেছেন এবং প্রায় ৫ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী ‘পরিবর্তনকামী জোটের’ প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মধ্যপন্থী নতুন দল ইয়াশার-এর প্রধান গাদি আইজেনকট। আদর্শিকভাবে বৈচিত্র্যময় এ জোটে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, চরম ডানপন্থী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান এবং বামঘেঁষা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়ার গোলান। তাঁদের আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রশ্নে তাঁরা এককাট্টা। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে অতি-ডানপন্থী ও কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করছেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যর্থতা। বিরোধী শিবির ওই হামলার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নেতানিয়াহুর ওপর চাপিয়ে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছে। বিপরীতে নেতানিয়াহু নিজেকে দেশের একমাত্র নিরাপত্তা অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন। এ ছাড়া অতি-রক্ষণশীল হরেদি ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়ানোর সরকারি নীতি নিয়েও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

নির্বাচনে আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের দুটি রাজনৈতিক জোটও অংশ নিচ্ছে, যা চূড়ান্ত সরকার গঠনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে ইহুদি প্রধান দলগুলো আরব জোটগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সরকার গঠনে অনিচ্ছুক। সামরিক বাহিনীর কয়েক লাখ সদস্যের ভোট গণনা শেষ হতে বুধবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা ফলাফলে বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সমর্থ না হলে এবং আলোচনায় কোনো সমঝোতা না এলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো আবারও সিরিজ নির্বাচনের বৃত্তে পড়তে পারে দেশটি; আর তেমনটি হলে নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল-জাজিরা 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ