ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ‘ধর্ষণ’ করেন ট্রাম্প

অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ‘ধর্ষণ’ করেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ধর্ষণের এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াত্রিস কিউল দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাঁর ওপর সে সময় নৃশংস যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এক তদন্তকারী দলের কাছে তিনি এ বিস্ফোরক বিবরণ তুলে ধরেছেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে একে 'ভুয়া খবর' ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, প্রয়াত কুখ্যাত অপরাধী জেফরি অ্যাপস্টাইন-সংক্রান্ত প্রতিটি তদন্তেই ট্রাম্প সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে তৈরি হওয়া রিপাবলিকান পার্টির ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার এক 'মরিয়া অপচেষ্টা' হিসেবে বর্ণনা করেছে প্রশাসন।

কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিয়াত্রিস কিউল জানান, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে মাত্র ২৪ বছর বয়সে 'আমেরিকান ড্রিম পেজেন্ট' অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব’। পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধির মাধ্যমে তাঁকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলার একটি ব্যক্তিগত স্যুটে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের ভাষ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্যুটে প্রবেশ করা মাত্রই ট্রাম্প তাঁকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন এবং বলপ্রয়োগ করে ধর্ষণ করেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরে রক্তপাত ও জখমের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই ট্রাম্প তাঁকে বিছানার পাশে বসিয়ে শান্ত হতে বলেন, পুনরায় ভিসা ও ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু না বলার নির্দেশ দিয়ে বলেন—‘শো মাস্ট গো অন’ (কাজ থেমে থাকবে না)।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও অসম্মতিমূলক স্পর্শের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, উচ্চতা এবং কথার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। নতুন প্রতিবেদনে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা প্রথমবার আনুষ্ঠানিক তদন্তে লিপিবদ্ধ করেছেন।

হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "জেফরি অ্যাপস্টাইনের সান্নিধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নারী সরাসরি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বলছে, প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দিতে বিচার বিভাগ অনেক কিছুই আড়াল করার চেষ্টা করছে।"

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অ্যাপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট তীব্র মূল্যস্ফীতির মুখে রিপাবলিকান প্রার্থীরা যখন কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন, ঠিক তখনই নতুন করে এ পুরোনো অভিযোগ সামনে আসায় ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র বিয়াত্রিস কিউল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ‘ধর্ষণ’ করেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ধর্ষণের এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড ও মডেল বিয়াত্রিস কিউল দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাঁর ওপর সে সময় নৃশংস যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এক তদন্তকারী দলের কাছে তিনি এ বিস্ফোরক বিবরণ তুলে ধরেছেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে একে 'ভুয়া খবর' ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, প্রয়াত কুখ্যাত অপরাধী জেফরি অ্যাপস্টাইন-সংক্রান্ত প্রতিটি তদন্তেই ট্রাম্প সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের ওপর ভর করে তৈরি হওয়া রিপাবলিকান পার্টির ঊর্ধ্বমুখী গতি থেকে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার এক 'মরিয়া অপচেষ্টা' হিসেবে বর্ণনা করেছে প্রশাসন।

কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিয়াত্রিস কিউল জানান, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে মাত্র ২৪ বছর বয়সে 'আমেরিকান ড্রিম পেজেন্ট' অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভিসা এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব’। পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধির মাধ্যমে তাঁকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলার একটি ব্যক্তিগত স্যুটে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের ভাষ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্যুটে প্রবেশ করা মাত্রই ট্রাম্প তাঁকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন এবং বলপ্রয়োগ করে ধর্ষণ করেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরে রক্তপাত ও জখমের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই ট্রাম্প তাঁকে বিছানার পাশে বসিয়ে শান্ত হতে বলেন, পুনরায় ভিসা ও ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু না বলার নির্দেশ দিয়ে বলেন—‘শো মাস্ট গো অন’ (কাজ থেমে থাকবে না)।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও অসম্মতিমূলক স্পর্শের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, উচ্চতা এবং কথার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। নতুন প্রতিবেদনে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা প্রথমবার আনুষ্ঠানিক তদন্তে লিপিবদ্ধ করেছেন।

হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "জেফরি অ্যাপস্টাইনের সান্নিধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নারী সরাসরি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বলছে, প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দিতে বিচার বিভাগ অনেক কিছুই আড়াল করার চেষ্টা করছে।"

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অ্যাপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট তীব্র মূল্যস্ফীতির মুখে রিপাবলিকান প্রার্থীরা যখন কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন, ঠিক তখনই নতুন করে এ পুরোনো অভিযোগ সামনে আসায় ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ