ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইসরায়েলের ক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের আভাস, নেতানিয়াহুকে ছাড়িয়ে আইজেনকট

ইসরায়েলের ক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের আভাস, নেতানিয়াহুকে ছাড়িয়ে আইজেনকট
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে জনমত জরিপগুলো কোনো পক্ষের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস না দিলেও দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অনেকটা পেছনে ফেলেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। আন্তর্জাতিক দুটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজির বাজারে নেতানিয়াহুর তুলনায় আইজেনকটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ দেখানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের দিন প্রকাশিত টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বাজির প্ল্যাটফর্ম কালশিতে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটের সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে ৫২ শতাংশ। একই প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর সম্ভাবনা ২৮ শতাংশ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সম্ভাবনা ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে পলিমার্কেটে আইজেনকটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ৫৮ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুর ২৭ শতাংশ। এই প্ল্যাটফর্মে অন্য কোনো প্রার্থীর সম্ভাবনা ১৫ শতাংশের বেশি নয়।

তবে এই শতাংশগুলো সরাসরি ভোটার সমর্থনের হিসাব নয়। এগুলো সংশ্লিষ্ট বাজির বাজারে অংশগ্রহণকারীদের লেনদেন থেকে নির্ধারিত সম্ভাবনা, যা নির্বাচনের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না।

বাজির বাজারে আইজেনকট এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলো ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছে।

গত সপ্তাহের অধিকাংশ জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা প্রায় ৫০।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু জরিপ অনুযায়ী, প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের কোনোটিই এককভাবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই।

এ অবস্থায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। যদিও পূর্বাভাসের বাজারগুলোতে আইজেনকটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণের ওপর।

ইসরায়েলের হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক মোরান ওফির এই দুই ধরনের পূর্বাভাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরেছেন।

জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সিকে তিনি জানান, জনমত জরিপে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তাঁরা কোন দলকে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে কালশি বা পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীরা অর্থের বিনিময়ে অনুমান করেন কে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হবেন।

এ ছাড়া জরিপের জন্য ভোটারদের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা নির্বাচন করা হলেও বাজির বাজারে অংশ নেন কেবল অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যক্তিরা।

ফলে পলিমার্কেটের শতাংশকে কোনো প্রার্থীর প্রতি মোট ভোটারের সমর্থনের হার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

অধ্যাপক মোরান ওফিরের গবেষণায় নির্বাচনী বাজির বাজারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কলাম্বিয়া ল স্কুলের অধ্যাপক জশুয়া মিটস এবং বেটিং ইন্টেলিজেন্সের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যান জিমারম্যানের সঙ্গে যৌথভাবে ১২ লাখ লেনদেন বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

গবেষণায় দেখা গেছে, পলিমার্কেটে নেতানিয়াহুর পক্ষে বাজি ধরা মোট অর্থের ১৮ শতাংশ এসেছে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। অন্যদিকে তাঁর বিপক্ষে বাজি ধরা মোট অর্থের ২৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে মাত্র সাতটি অ্যাকাউন্ট।

গবেষকদের মতে, অল্পসংখ্যক বড় বিনিয়োগকারীর হাতে এত বিপুল অর্থ কেন্দ্রীভূত থাকায় বাজারের পূর্বাভাস প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মোরান ওফিরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত ধারণার পরিবর্তে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগকারী কিছু ব্যক্তি উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য কেবল আর্থিক লাভ নাও হতে পারে। নির্বাচনের আগে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টাও এর পেছনে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গবেষণায় উঠে আসা একটি উদাহরণে দেখা যায়, গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের পিপল অব ইসরায়েল পার্টির নেতা ওফের উইন্টারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুটি নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ ডলার বাজি ধরা হয়।

সে সময় তাঁর দলের সমর্থন নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

ওই দুটি অ্যাকাউন্টের বাজির পর সাময়িকভাবে পলিমার্কেটের সম্ভাবনার তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের প্রধান আভিগদোর লিবারম্যানকে ছাড়িয়ে যান উইন্টার।

এর কিছু সময় পর ইসরায়েলের একটি প্রধান সংবাদপত্রে উইন্টারের এগিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

অধ্যাপক ওফিরের সন্দেহ, এ ধরনের বাজির উদ্দেশ্য হতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর রাজনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে জনমনে অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি করা। তবে এটি প্রমাণিত উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

গবেষকেরা আরও কিছু বড় অঙ্কের লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অপ্রকাশিত তথ্য থাকার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত বাজির ক্ষেত্রেও তাঁরা একই ধরনের কিছু প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

প্রতিবেদনে ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনের পূর্বাভাসের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় পলিমার্কেটে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল মাত্র ১৭ শতাংশ।

ইসরায়েলের নির্বাচনেও একই ধরনের পূর্বাভাসভিত্তিক লেনদেন চলছে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব অনুমানকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জনমত জরিপে কোনো জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

ট্যাগ : বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েল নির্বাচন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলের ক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের আভাস, নেতানিয়াহুকে ছাড়িয়ে আইজেনকট

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে জনমত জরিপগুলো কোনো পক্ষের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস না দিলেও দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অনেকটা পেছনে ফেলেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। আন্তর্জাতিক দুটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজির বাজারে নেতানিয়াহুর তুলনায় আইজেনকটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ দেখানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের দিন প্রকাশিত টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বাজির প্ল্যাটফর্ম কালশিতে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটের সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে ৫২ শতাংশ। একই প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর সম্ভাবনা ২৮ শতাংশ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সম্ভাবনা ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে পলিমার্কেটে আইজেনকটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ৫৮ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুর ২৭ শতাংশ। এই প্ল্যাটফর্মে অন্য কোনো প্রার্থীর সম্ভাবনা ১৫ শতাংশের বেশি নয়।

তবে এই শতাংশগুলো সরাসরি ভোটার সমর্থনের হিসাব নয়। এগুলো সংশ্লিষ্ট বাজির বাজারে অংশগ্রহণকারীদের লেনদেন থেকে নির্ধারিত সম্ভাবনা, যা নির্বাচনের ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না।

বাজির বাজারে আইজেনকট এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলো ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছে।

গত সপ্তাহের অধিকাংশ জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা প্রায় ৫০।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু জরিপ অনুযায়ী, প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের কোনোটিই এককভাবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই।

এ অবস্থায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। যদিও পূর্বাভাসের বাজারগুলোতে আইজেনকটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণের ওপর।

ইসরায়েলের হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক মোরান ওফির এই দুই ধরনের পূর্বাভাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরেছেন।

জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সিকে তিনি জানান, জনমত জরিপে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তাঁরা কোন দলকে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে কালশি বা পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীরা অর্থের বিনিময়ে অনুমান করেন কে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হবেন।

এ ছাড়া জরিপের জন্য ভোটারদের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা নির্বাচন করা হলেও বাজির বাজারে অংশ নেন কেবল অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যক্তিরা।

ফলে পলিমার্কেটের শতাংশকে কোনো প্রার্থীর প্রতি মোট ভোটারের সমর্থনের হার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

অধ্যাপক মোরান ওফিরের গবেষণায় নির্বাচনী বাজির বাজারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কলাম্বিয়া ল স্কুলের অধ্যাপক জশুয়া মিটস এবং বেটিং ইন্টেলিজেন্সের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যান জিমারম্যানের সঙ্গে যৌথভাবে ১২ লাখ লেনদেন বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

গবেষণায় দেখা গেছে, পলিমার্কেটে নেতানিয়াহুর পক্ষে বাজি ধরা মোট অর্থের ১৮ শতাংশ এসেছে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। অন্যদিকে তাঁর বিপক্ষে বাজি ধরা মোট অর্থের ২৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে মাত্র সাতটি অ্যাকাউন্ট।

গবেষকদের মতে, অল্পসংখ্যক বড় বিনিয়োগকারীর হাতে এত বিপুল অর্থ কেন্দ্রীভূত থাকায় বাজারের পূর্বাভাস প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মোরান ওফিরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত ধারণার পরিবর্তে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগকারী কিছু ব্যক্তি উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য কেবল আর্থিক লাভ নাও হতে পারে। নির্বাচনের আগে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টাও এর পেছনে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গবেষণায় উঠে আসা একটি উদাহরণে দেখা যায়, গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের পিপল অব ইসরায়েল পার্টির নেতা ওফের উইন্টারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুটি নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ ডলার বাজি ধরা হয়।

সে সময় তাঁর দলের সমর্থন নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

ওই দুটি অ্যাকাউন্টের বাজির পর সাময়িকভাবে পলিমার্কেটের সম্ভাবনার তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের প্রধান আভিগদোর লিবারম্যানকে ছাড়িয়ে যান উইন্টার।

এর কিছু সময় পর ইসরায়েলের একটি প্রধান সংবাদপত্রে উইন্টারের এগিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

অধ্যাপক ওফিরের সন্দেহ, এ ধরনের বাজির উদ্দেশ্য হতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর রাজনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে জনমনে অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি করা। তবে এটি প্রমাণিত উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

গবেষকেরা আরও কিছু বড় অঙ্কের লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অপ্রকাশিত তথ্য থাকার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত বাজির ক্ষেত্রেও তাঁরা একই ধরনের কিছু প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

প্রতিবেদনে ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনের পূর্বাভাসের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় পলিমার্কেটে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল মাত্র ১৭ শতাংশ।

ইসরায়েলের নির্বাচনেও একই ধরনের পূর্বাভাসভিত্তিক লেনদেন চলছে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব অনুমানকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জনমত জরিপে কোনো জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ