ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লিবিয়ায় সাত মাস আটক থাকার পর দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক

লিবিয়ায় সাত মাস আটক থাকার পর দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইতালিতে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে গিয়ে লিবিয়ায় আটক হওয়া টাঙ্গাইলের দুই যুবক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর উদ্যোগে সহযোগিতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

ফেরত আসা দুই যুবক হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে নেওয়া এবং কাজ দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। পরে সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে তাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন তাঁদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে একপর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। দীর্ঘ চেষ্টা করেও স্বজনেরা তাঁর খোঁজ পাচ্ছিলেন না।

এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজের বড় ভাই ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, “আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত ও তাঁদের দেশে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

ট্যাগ : লিবিয়া টাঙ্গাইল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


লিবিয়ায় সাত মাস আটক থাকার পর দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইতালিতে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে গিয়ে লিবিয়ায় আটক হওয়া টাঙ্গাইলের দুই যুবক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর উদ্যোগে সহযোগিতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

ফেরত আসা দুই যুবক হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে নেওয়া এবং কাজ দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। পরে সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে তাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন তাঁদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে একপর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। দীর্ঘ চেষ্টা করেও স্বজনেরা তাঁর খোঁজ পাচ্ছিলেন না।

এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজের বড় ভাই ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, “আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত ও তাঁদের দেশে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ