ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানে হামলার চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, সায় দেননি ট্রাম্প

সিএনএনকে ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্র

ইরানে হামলার চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, সায় দেননি ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরায়েলের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের আগেই ইরানে বড় পরিসরে একযোগে সামরিক আঘাত হানার জন্য ট্রাম্পকে রাজি করানোর জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে এতে সম্মতি বা কোনো ‘সবুজ সংকেত’ দেননি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে জানিয়েছিলেন, বিদ্যমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ইরানে হামলা চালালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভোট পিছিয়ে দেওয়ার মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সিএনএনের বরাতে আরও জানা যায়, এমনকি গত সপ্তাহেও ইরানে একতরফাভাবে নতুন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত ও যৌথ সমন্বয়ের চেষ্টাও চালানো হয়। কিন্তু ট্রাম্পসহ ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আপাতত যেকোনো ধরনের বড় আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সুবিধাজনক সময়ে দুই দেশ যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল হামলার প্রাথমিক পরিকল্পনা পিছিয়ে দিলেও মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার ওপর নির্ভরতার কারণেই ওয়াশিংটনের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানো হলে তেহরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টা আঘাত আসতে পারে। এতে ইসরায়েলের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (যেমন অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং) ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রতিরক্ষা ঢাল ও গোলাবারুদের সরবরাহ অপরিহার্য।

এদিকে সম্প্রতি এক সামরিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই এখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতি তাঁর মূল কৌশলগত নির্দেশনা। তবে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরুর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অনুমোদনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে তেল আবিব।

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগ : হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ইরানে হামলার চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, সায় দেননি ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরায়েলের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের আগেই ইরানে বড় পরিসরে একযোগে সামরিক আঘাত হানার জন্য ট্রাম্পকে রাজি করানোর জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে এতে সম্মতি বা কোনো ‘সবুজ সংকেত’ দেননি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে জানিয়েছিলেন, বিদ্যমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ইরানে হামলা চালালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভোট পিছিয়ে দেওয়ার মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সিএনএনের বরাতে আরও জানা যায়, এমনকি গত সপ্তাহেও ইরানে একতরফাভাবে নতুন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত ও যৌথ সমন্বয়ের চেষ্টাও চালানো হয়। কিন্তু ট্রাম্পসহ ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আপাতত যেকোনো ধরনের বড় আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সুবিধাজনক সময়ে দুই দেশ যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল হামলার প্রাথমিক পরিকল্পনা পিছিয়ে দিলেও মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার ওপর নির্ভরতার কারণেই ওয়াশিংটনের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানো হলে তেহরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টা আঘাত আসতে পারে। এতে ইসরায়েলের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (যেমন অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং) ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি প্রতিরক্ষা ঢাল ও গোলাবারুদের সরবরাহ অপরিহার্য।

এদিকে সম্প্রতি এক সামরিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই এখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতি তাঁর মূল কৌশলগত নির্দেশনা। তবে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরুর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত রাজনৈতিক অনুমোদনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে তেল আবিব।

সূত্র: সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ