ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের আগেই ইরানে বড় পরিসরে একযোগে সামরিক আঘাত হানার জন্য ট্রাম্পকে রাজি করানোর জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে এতে সম্মতি বা কোনো ‘সবুজ সংকেত’ দেননি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে জানিয়েছিলেন, বিদ্যমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ইরানে হামলা চালালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভোট পিছিয়ে দেওয়ার মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সিএনএনের বরাতে আরও জানা যায়, এমনকি গত সপ্তাহেও ইরানে একতরফাভাবে নতুন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল হামলার প্রাথমিক পরিকল্পনা পিছিয়ে দিলেও মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার ওপর নির্ভরতার কারণেই ওয়াশিংটনের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি এক সামরিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই এখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রতি তাঁর মূল কৌশলগত নির্দেশনা।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্যসমূহ