রাজধানীর ঐতিহাসিক রায়েরবাজার বধ্যভূমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানের সংরক্ষণ এবং আধুনিক উন্নয়নকাজের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) এ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বধ্যভূমিতে নবনির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং এগুলোর সঠিক ব্যবহার, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবশিষ্ট নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার যতবারই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, ততবারই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বোচ্চ আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির চিরন্তন গৌরবের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগকে ধারণ ও লালন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জাতীয় দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগেই এখানকার সব কাজ সম্পন্ন করে নবনির্মিত স্থাপনাগুলো সর্বসাধারণ ও গবেষকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত বিশেষ লাইব্রেরিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দলিলপত্র নিয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণার আধুনিক সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আর্ট গ্যালারিতে চিত্রকর্ম ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭১-এর বীরত্বগাথা ও গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সার্বিক বাস্তবায়নে ‘১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর আওতায় রায়েরবাজারে লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল, আর্ট গ্যালারি, প্রশাসনিক কক্ষ, জেনারেটর রুম, ১০টি দোকান এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ছাড়াও ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার, ৪০ কেভিএ জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে পরিদর্শন শেষে রায়েরবাজার বধ্যভূমির লাইব্রেরি কাম অডিও-ভিজ্যুয়াল হল ও আর্ট গ্যালারির কিছু ফিনিশিং কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। অবশিষ্ট ত্রুটিগুলো দ্রুত দূর করা এবং সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম-সচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জেহাদ উদ্দিন, যুগ্ম-সচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ সামছুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ