মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে একযোগে বড় ধরনের বিধ্বংসী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন যৌথভাবে ইরানের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করে হামলার একটি বিস্তৃত তালিকা চূড়ান্ত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এই যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল কোনো সামরিক আক্রমণ চালালে ইরান এবং তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সম্ভাব্য হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশের অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে তাৎক্ষণিক এবং জোরালো পাল্টা আঘাত হানতে পারে তেহরান। এ ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে সতর্কতা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও অনাবশ্যক কর্মীদের ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। পরিদর্শনকালে তিনি ইরানের বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক নজরদারি ও অবরোধ জোরদার রাখার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং কোনো কূটনৈতিক নিষ্পত্তি না এলে ওয়াশিংটন সামরিক অভিযানের পথেই হাঁটবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তাৎক্ষণিক হামলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ দিয়ে আসছেন। তবে ট্রাম্প নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে নেতানিয়াহুকে আপাতত সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ইরানের পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীও আপাতত ট্রাম্পের আহ্বানে সায় দিয়ে নির্বাচনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত যৌথ অভিযানের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্যসমূহ