ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় ৭ দেশে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় ৭ দেশে হামলার হুমকি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি আরব দেশের তেল অবকাঠামো, সমুদ্রগর্ভের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেবল (Submarine Cables), ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংশ্লিষ্ট উন্নত অবকাঠামোগুলোতে বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে যৌথ বিমান হামলা চালানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। এই আসন্ন সংঘাতকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদি বলেন, “দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। তাই এবার আমাদের কৌশল হবে কোনো সীমারেখা না মানা। যুদ্ধের সময় এবং ভৌগোলিক পরিসর—উভয় ক্ষেত্রেই আমরা প্রচলিত সীমানা ভেঙে দেব। সংঘাত শত্রুপক্ষের ধারণার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে যৌথ হামলার জন্য মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজার হাজার মেরিন সেনা, দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান ও বিশেষ কম্যান্ডো বাহিনী মোতায়েন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এদিকে তেলআবিবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু। অভিযোগ রয়েছে, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে আক্রমণ চালাক, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানকে ইরানের সীমান্তের অতি সন্নিকটে মহড়া দিতে দেখা গেছে।

এমন চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইতিমধ্যেই বাণিজ্য জাহাজে ড্রোন ও মাইন হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, তৃতীয় ধাপের যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরজুড়ে বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি শোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। কোটি কোটি মানুষ বিদ্যুৎ ও খাবার পানিশূন্য হয়ে পড়বে, যা থেকে লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল ইউরোপের দিকে ছুটবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক মন্দায় পতিত হবে।

আইআরজিসি সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংঘাতে ইরানি কর্মকর্তা বা বেসামরিক লোক নিহত হলে কেবল সামরিক নয়, প্রতিপক্ষের শীর্ষ রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও আঘাত হানা হবে। তবে এই প্রলয়ঙ্করী সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। সংকট নিরসনে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউরোপের তিনটি দেশ, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠকে বসছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার, পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে পাঠানোর বিনিময়ে ইরানের জব্দকৃত তহবিল ছাড়ের একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় ৭ দেশে হামলার হুমকি ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি আরব দেশের তেল অবকাঠামো, সমুদ্রগর্ভের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেবল (Submarine Cables), ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংশ্লিষ্ট উন্নত অবকাঠামোগুলোতে বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে যৌথ বিমান হামলা চালানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। এই আসন্ন সংঘাতকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদি বলেন, “দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। তাই এবার আমাদের কৌশল হবে কোনো সীমারেখা না মানা। যুদ্ধের সময় এবং ভৌগোলিক পরিসর—উভয় ক্ষেত্রেই আমরা প্রচলিত সীমানা ভেঙে দেব। সংঘাত শত্রুপক্ষের ধারণার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে যৌথ হামলার জন্য মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজার হাজার মেরিন সেনা, দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান ও বিশেষ কম্যান্ডো বাহিনী মোতায়েন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এদিকে তেলআবিবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু। অভিযোগ রয়েছে, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে আক্রমণ চালাক, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানকে ইরানের সীমান্তের অতি সন্নিকটে মহড়া দিতে দেখা গেছে।

এমন চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইতিমধ্যেই বাণিজ্য জাহাজে ড্রোন ও মাইন হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, তৃতীয় ধাপের যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরজুড়ে বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি শোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। কোটি কোটি মানুষ বিদ্যুৎ ও খাবার পানিশূন্য হয়ে পড়বে, যা থেকে লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল ইউরোপের দিকে ছুটবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক মন্দায় পতিত হবে।

আইআরজিসি সূত্র জানিয়েছে, নতুন সংঘাতে ইরানি কর্মকর্তা বা বেসামরিক লোক নিহত হলে কেবল সামরিক নয়, প্রতিপক্ষের শীর্ষ রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও আঘাত হানা হবে। তবে এই প্রলয়ঙ্করী সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। সংকট নিরসনে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইউরোপের তিনটি দেশ, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠকে বসছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহার, পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে পাঠানোর বিনিময়ে ইরানের জব্দকৃত তহবিল ছাড়ের একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ