গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি টিনশেড মসজিদ, ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি দোকান, কয়েকটি মুরগির দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ভাঙারির দোকানসহ একটি বাড়ির ছয়টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ৪টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর সিএমডি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের দুটি ভাঙারির গুদাম, রফিকুল ইসলামের স্যানিটারি ও রড-সিমেন্টের দোকান, শহিদুল ইসলাম ফালানের মুরগির দোকান, অপর শফিকের তুলার গুদাম, কয়েকটি ফার্নিচারের দোকান এবং একটি বাড়ির ছয়টি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙারি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শফি জানান, তাঁর দুটি গুদামে মজুত রাখা প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে স্যানিটারি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, আগুনে তাঁর বিপুল পরিমাণ স্যানিটারি সামগ্রী ও সিমেন্ট নষ্ট হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুরগির দোকানি শহিদুল ইসলাম ফালান জানান, ভোররাতে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দোকানে মুরগি নামানোর সময় তিনি হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর চিৎকারে বাজারের নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম জানান, রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তবে তুলার গুদাম ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে শ্রীপুর থেকে আরও একটি এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। চারটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
মন্তব্যসমূহ