ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার অবসান নিয়ে শিগগিরই একটি চূড়ান্ত পরিণতি বা ফলাফল দৃশ্যমান হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা বা আলোচনা চলছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি বলেন, “না, আমার মনে হয় না আমরা কোনো আলোচনা করছি। তবে কোনো না কোনোভাবে হোক, খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।” ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, অধিকাংশ মানুষ ধারণা করছেন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই এ বিষয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং সবাই এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এর আগে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ওই নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। তবে তিনি এমন একটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চান যা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ও স্থায়ী হবে। তিনি বলেন, “সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পুরোপুরি পরাস্ত করেছে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ পাবে না।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের পরমাণু ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত তীব্র তিন দিনের যৌথ সামরিক হামলার রূপরেখা প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত সায় দেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে; কারণ চলতি বছর বড় ধরনের অভিযানের একাধিক প্রস্তাবনায় তিনি ভেটো দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবে থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন আগাম কোনো মন্তব্য করে না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ